Online tips

ঘরে বসে মোবাইল দিয়ে টাকা ইনকাম করুন

আজকে আলোচনা করব কিভাবে ঘরে বসে মোবাইল দিয়ে টাকা ইনকাম করা যায়। বর্তমান সময়কে অনলাইন যুগ বলে থাকে অনেকে। এর পিছনে কারণও  রয়েছে আর তা হচ্ছে বর্তমানে সবকিছু অনলাইন ভিত্তিক হয়ে গিয়েছে। আর এই অনলাইনের মাধ্যমে টাকা উপার্জন করার অনেক মাধ্যম রয়েছে। আজকে আমি সেই মাধ্যমগুলো তুলে ধরার চেষ্টা করবো। বর্তমানে আমাদের হাতে যেই স্মার্টফোনগুলো রয়েছে সেগুলো অনেক উন্নত সম্মত ডিভাইস যেগুলোর মাধ্যমে খুব সহজে ইন্টারনেট ব্যবহার থেকে অনেক কাজ করা যায়। আপনি যদি চান তাহলে অনলাইন থেকে মোবাইল দিয়ে টাকা ইনকাম করতে পারবেন। অনলাইন থেকে শুধুমাত্র কম্পিউটার হলেই যে টাকা ইনকাম করা যায় এটা পুরোপুরি ভুল ধারণা। বর্তমানে একটি ভালো স্মার্ট ফোন এবং ইন্টারনেট কানেকশন থাকলে ঘরে বসে অনলাইন থেকে টাকা ইনকাম করতে পারবেন।

মোবাইল দিয়ে টাকা ইনকাম করার মাধ্যম

মোবাইল দিয়ে টাকা ইনকাম করার অনেকগুলো মাধ্যমে রেয়েছে। তার মধ্যে যে কাজগুলো করার জন্য কোন ধরনের স্কিল  প্রয়োজন হয় না এবং যেগুলো মাধ্যমে খুব ভালো টাকা ইনকাম করা সম্ভব সেগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করার চেষ্টা করব। তাহলে চলুন জেনে নেওয়া যাক মোবাইল দিয়ে টাকা ইনকাম করার মাধ্যম গুলোর সম্পর্কে

১।এয়ারড্রপ(Airdrop)

এয়ারড্রপ সম্পর্কে অনেকে জেনে থাকবেন আবার অনেকে হয়তো এই প্রথম নাম শুনলেন। আপনারা হয়তো বিটকয়েন সম্পর্কে জেনে থাকবেন আর যদি না জেনে থাকেন নিচের আর্টিকেলটি পড়ে নিন।

বিটকয়েন কি? বিটকয়েন কি বাংলাদেশে বৈধ?

বিটকয়েন হচ্ছে অনলাইন ডিজিটাল মুদ্রা। এরকম অনেকগুলো প্রতিষ্ঠান রয়েছে যারা অনলাইনে নতুন নতুন মুদ্রা বা টোকেন নিয়ে আসে। সেই সময় প্রতিষ্ঠানগুলো অফার এর মাধ্যমে গ্রাহকদের বিনামূল্যে কিছু পরিমাণ মুদ্রা বা টোকেন উপহার দিয়ে থাকেন। সাধারন জনগন টোকেন বা মুদ্রা গ্রহণ করার জন্য সে প্রতিষ্ঠানগুলোর সাইটে একাউন্ট খোলতে হয়।

এয়ারড্রপ কাজ করার জন্য কোনরকম স্কিলের প্রয়োজন হয় না। শুধুমাত্র ওয়েবসাইটগুলোতে যখন অফার দেওয়া হয় তখন অ্যাকাউন্ট খুলে বসে থাকতে হবে। একটি নির্দিষ্ট সময় পর সেই টোকেন গুলো ডলারের সাথে এক্সচেঞ্জ করা যায়। আপনাদেরকে মনে রাখতে হবে বর্তমান সময়ে বেশিরভাগ এয়ারড্রপ ফেক হয়ে থাকে যেগুলোর টোকেনের কোন মার্কেট ভ্যালু থাকেনা। তাই এই সেক্টরে  ভালো করার জন্য ধৈর্য সহকারে ভালো করে মার্কেট রিসার্চ করতে হবে। এবং অনেকগুলো এয়ারড্রপে জয়েন হয়ে বসে থাকতে হবে। একজন  অভিজ্ঞতার লোক যে অনেকদিন যাবত এয়ারর্ড্রপের সাথে জড়িত  তার সাথে কাজ করতে পারেন।৫-৬ মাস যদি ধৈর্য ধারণ করে এই সেক্টরে লেগে থাকতে পারেন। প্রতিমাসে ৫০ হাজার থেকে ১ লক্ষ টাকা ইনকাম করা সম্ভব। এয়ারড্রপ সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানতে ইউটিউব বা গুগোল সার্চ করে রিসার্চ করতে পারেন।

২। ব্লগিং

ব্লগিং কাকে বলে? এখন যে আপনারা আমার আর্টিকেল পড়ছেন এটাকেই ব্লগিং বলা হয়। ব্লগিং হচ্ছে একটি ওয়েবসাইট তৈরি করে সেখানে বিভিন্ন রকমের আর্টিকেল পাবলিশ করাকে বুঝায়। আপনি কি জানেন ব্লগিং করেও টাকা ইনকাম করা সম্ভব। আপনি যদি ভালো মানসম্মত আর্টিকেল পাবলিশ করেন আপনার ওয়েবসাইটে তাহলে গুগল এডসেন্স এর জন্য আবেদন করতে পারবেন। আর গুগল অ্যাডসেন্স পাওয়ার পর আপনার সাইটে ইনকাম হওয়া শুরু হবে। ভিজিটররা বিভিন্ন এড এ ক্লিক করার মাধ্যমে আপনার ইনকাম হবে। এর জন্য এডসেন্স এর পাশাপাশি সাইটের জন্য প্রয়োজন প্রচুর পরিমানের ভিজিটর।

ব্লগিং এর কাজটি আপনি চাইলে মোবাইল দিয়ে খুব সুন্দর ভাবে করতে পারবেন। ইংরেজি বা বাংলা কনটেন্ট লিখে প্রতিদিন আয় করতে পারবেন। বাংলা ব্লগিং এর তুলনায় ইংলিশ ব্লগিং এর ইনকাম অনেক বেশি। আপনি যদি ইংলিশ ভালো পারেন তাহলে আমার পরামর্শ থাকবে ইংলিশে ব্লগিং করার জন্য। আর যদি ইংলিশে তেমন পারদর্শী না হয়ে থাকেন তাহলে বাংলাতে ব্লগিং শুরু করে দিন। আমার জানামতে বাংলা ব্লগিং থেকে মাসে ৫০০ থেকে ১০০০ ডলার পর্যন্ত আয় করা সম্ভব। তাই বাংলা হোক বা ইংলিশ যেই ভাষার ব্লগিং হোক না কেন আজ থেকে ব্লগিং করা শুরু করে দিন। ব্লগিং করে খুব সহজেই মোবাইল দিয়ে টাকা ইনকাম করতে পারবেন।

৩। ফেইসবুক ও ইউটিউব

ফেসবুক এবং ইউটিউব এর মাধ্যমে টাকা উপার্জন করা যায়। বর্তমান সময়ে বিনোদনের জন্য খুব জনপ্রিয় মাধ্যম ফেসবুক এবং ইউটিউব। আমাদের বেশির ভাগ সময় ফেসবুক ও ইউটিউব ব্যবহার করার মাধ্যমে চলে যায়। আপনারা কি জানেন আমরা যাদের ভিডিও দেখি তারা কিন্তু সেই ভিডিও গুলোর কারণে টাকা পেয়ে থাকেন।

ফেসবুক এবং ইউটিউব থেকে টাকা আয় করার জন্য ইউনিক ভিডিও তৈরি করতে হবে এবং সেগুলো ফেসবুক এবং ইউটিউব এ আপলোড করতে হবে। বর্তমান সময়ে মিড বাজেট এর স্মার্ট মোবাইল গুলোর ক্যামেরা যথেষ্ট ভালো।  স্মার্টফোন গুলো দিয়ে ভালো মানের ভিডিও তৈরি করে এবং কোয়ালিটিফুল এডিটিং করে ইউটিউবে বা ফেসবুকে আপলোড করে টাকা আয় করা সম্ভব। আপনার কন্টেন যদি ভাল হয় তাহলে ভিডিও আপলোড করার পর মনিটাইজেশন এর জন্য আবেদন করতে পারবেন। তারপর তারা আপনার ভিডিওর কোয়ালিটি বিবেচনা করে আপনাকে মনিটাইজেশন প্রদান করবে। আর এই মনিটাইজেশন এর মাধ্যমে ডলার ইনকাম করতে পারবেন।

তাই আজ থেকে শুরু করে দিন আপনার হাতের স্মার্টফোনের মাধ্যমে ভিডিও তৈরি করা। আর সেই ভিডিওগুলো ফেসবুক এবং ইউটিউব এ আপলোড করুন। আরেকটি কথা হচ্ছে ফেসবুকে আপনার পার্সোনাল অ্যাকাউন্ট থেকে ভিডিও আপলোড করলে হবে না। অবশ্যই একটি পেজ খুলে তারপর সেই পেজে ভিডিওগুলো আপলোড করবেন।

৪। অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং

অনেকে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং সম্পর্কে আজকে প্রথম শুনে থাকতে পারেন। অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং হচ্ছে কোন প্রতিষ্ঠানের পণ্য বিক্রয় করে দেওয়ার বিনিময়ে যে অর্থ আপনাকে প্রদান করা হবে সেটাকে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং বলা হয়।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করার জন্য ডিজিটাল মার্কেটিং সম্পর্কে জ্ঞান থাকা প্রয়োজন। আপনি আপনার ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, টিক টক আইডিগুলোতে যদি ভালো ফ্যান ফলোয়ার্স থাকে। তাহলে বিভিন্ন বড় বড় প্রতিষ্ঠান পণ্য বিক্রয় করে অর্থ উপার্জন করতে পারবেন।

আলিবাবা, অ্যামাজন সহ আরো অনেক বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলো অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে টাকা উপার্জন করার জন্য সুযোগ করে দিয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানগুলো আপনাকে প্রথমে একটি লিংক দিবে। সেই লিঙ্ক আপনার সোশ্যাল মিডিয়ার অ্যাকাউন্ট গুলোতে বা আপনার ওয়েবসাইটে শেয়ার করে পাবলিক কে উৎসাহ করতে পারেন পণ্যগুলো ক্রয় করার জন্য।

৫। শেষ কথা

আজকে মোবাইল দিয়ে টাকা ইনকাম করার উপায় গুলো নিয়ে আলোচনা করা হলো। সেগুলো মাধ্যমে আপনার ক্যারিয়ার গড়ে তুলতে পারবেন। আজকে শুধুমাত্র টাকা আয় করার মাধ্যম গুলো সম্পর্কে হালকা ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করেছি্। সেই ভাবে গভীরভাবে কোন আলোচনা করা হয়নি। আমি শুধুমাত্র আপনাদের কাছে মোবাইল দিয়ে টাকা ইনকাম করার মাধ্যম গুলো তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। মোবাইলে টাকা ইনকাম করা যে মাধ্যমগুলো আপনাদের কাছে খুব ভালো লাগবে। সেগুলো নিয়ে গুগল বা ইউটিউবে আরো রিচার্চ  করে সেগুলো সম্পর্কে ভালোভাবে ধারণা নিয়ে কাজ শুরু করে দিন। তাই আজ থেকে বসে না থেকে যে কোন একটি মাধ্যমে টাকা আয় করার জন্য লেগে পড়ুন। আপনার জন্য শুভকামনা রইল🙂

Follow topics bangla facebook pag

 

Topicsbangla

জানা ও অজানা বিষয় গুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরা আমাদের মূল লক্ষ।আমাদের সাথেই থাকুন আশা করি উপকৃত হবেন।☺☺

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button