Life Style

এইবার একটু নিজের চিন্তা করুন। নিজেকে ভালো রাখার উপায়

আজকে আলোচনা করবো নিজেকে ভালো রাখার উপায় সম্পর্কে। বর্তমান সময়ে এমন একটি পরিস্থিতি দাঁড়িয়েছে অন্যদের ভালো রাখতে গিয়ে অন্যদের মন রাখতে গিয়ে আমরা নিজেদের কথায় ভুলে যায়। এই পৃথিবীতে সবাই নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত আপনি আজকে যার কথা ভেবে আপনার মূল্যবান সময় নষ্ট করছেন একটা সময় আসবে দেখা যাবে সেই মানুষটার কাছেই আপনার জন্য কোন সময় নেই। তাই আমাদের ভালো রাখতে একমাত্র আমরা নিজেরাই পারি। যখন আমরা নিজেকে ভালো রাখার চেষ্টা করবো নিজের সম্পর্কে ভাবা শুরু করবো এবং নিজের জন্য ভালো কিছু করার চেষ্টা করবো তখনই আমরা নিজেকে ভালো রাখতে পারবো।

বর্তমান সময়ে আমাদের মধ্যে ডিপ্রেশন, হতাশা, চিন্তা বাসা বেধে গেছে যার ফলে আমরা নিজেদেরকে ভালো রাখতে পারিনা। তাই এই সমস্যাগুলো থেকে বের হওয়ার জন্য কিছু দিক চিন্তাভাবনা করে আপনার জীবন পরিচালনা করতে হবে তাহলে এই সমস্যাগুলো থেকে পরিত্রান পাবেন।

নিজেকে ভালো রাখার উপায়

নিজেকে ভালো রাখার উপায়

আমার মনে হয় আপনি হয়তো এখন নিজেকে নিয়ে ভাবা শুরু করে দিয়েছেন যার জন্য নিজেকে ভালো রাখার উপায় সম্পর্কে খোঁজাখুঁজি শুরু করে দিয়েছেন। এটা খুবই ভালো লক্ষণ আমাদের সকলের উচিত নিজেকে নিয়ে ভাবা এবং নিজেকে ভালো রাখার চেষ্টা করা। এই পৃথিবীতে খুব কম মানুষই আছে যারা অন্যেকে ভালো রাখার দায়িত্ব নেয় তাই আমার মতে নিজেকে ভালো রাখতে চাইলে সেই দায়িত্বটা নিজেদেরই নিতে হবে। আমি আজকে চেষ্টা করবো নিজেকে ভালো রাখার উপায় সম্পর্কে কিছু পয়েন্ট আপনাদের সামনে তুলে ধরার।

১। প্রত্যাশা কমিয়ে দিন

নিজেকে ভালো রাখার উপায় গুলোর মধ্যে আমি প্রত্যাশা কমিয়ে দেওয়ার বিষয়টি সবার আগে রেখেছি। এর কারণ হচ্ছে আজকাল আমাদের মাঝে অনেক বেশি প্রত্যাশা তৈরি হচ্ছে। আমাদের মাঝে অনেক বেশি চাহিদা তৈরি হচ্ছে আমরা অন্যের থেকে পাওয়ার আশা বেশি করে থাকি । আর এই কারণে আমাদের মধ্যে ডিপ্রেশন জিনিসগলো বেশি চলে আসে। তাই অন্যের প্রতি কোন রকম প্রত্যাশা রাখা যাবে না সে যত আপন মানুষই হোক না কেন সে যদি আপনার বাবা – মা, ভাই,  বোন বা খুব ভালো বন্ধু হোক না কেন কখনোই তাদের প্রতি কোন রকম প্রত্যাশা রাখবেন না।

উদাহরণস্বরূপ ধরুন আপনার কোন প্রত্যাশা নেই আপনার বাবা আপনার জন্য চকলেট এনে দিল এতেই আপনি অনেক খুশি আবার আপনার যদি প্রত্যাশা থাকে যে আপনার বাবা আপনার জন্য চকলেট আনবে কিন্তু কোনো কারণবশত আপনার জন্য চকলেট না এনে আপনার জন্য বিরিয়ানি নিয়ে আসলো এটা কিন্তু আপনার মন খারাপ হয়ে যাবে। কিন্তু আপনার যদি কোন প্রত্যাশা না থাকে তাহলে আপনার জন্য যেই জিনিসটা আনুক না কেন আপনি কিন্তু অনেক খুশি হয়ে যাবেন। তাই আমাদের জীবনে অন্যের থেকে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষাটা  কমাতে হবে। আপনার প্রত্যাশা আপনার নিজের কাছে থাকবে আপনার কি লাগবে টা আপনাকেই পূরণ করার দায়িত্ব নিতে হবে। তাই আজ থেকে অন্যের থেকে পাওয়ার আশা বন্ধ করে দিন এবং নিজের স্বপ্ন গুলো অন্যের মাধ্যমে পূরণ করার আশা বাদ দিয়ে দিন।

২। না বলতে শিখুন

আপনি কখনো পৃথিবীর সব মানুষকে খুশি করতে পারবেন না তাই কখনো সবাইকে খুশি করতে যাবেন না এটা আপনার কাজ নয়। যদি কেউ আপনাকে কোন কাজের জন্য অনুরোধ করে আর সেই কাজটি আপনার কাছে ভুল মনে হয় তাহলে সেই কাজ করা থেকে বিরত থাকুন এবং তাকে না করে দিন। আর একটি কথা মনে রাখবেন কাউকে মনে আঘাত দিয়ে না করতে যাবেন না তাকে বিনয়ের সাথে বুঝিয়ে বলার চেষ্টা করুন।

৩। নিজের মনের কথা শুনুন

সবক্ষেত্রে অন্যদের কথা শোনার কোন প্রয়োজন নেই। লোকে কি বলবে এই কথার উপর ভিত্তি করে মানুষ তাদের স্বপ্নগুলো বিসর্জন দেয়। সব সময় যদি লোকের কথা ভেবে যান তাহলে আপনার মনের কথা গুলোর কোন দাম দেওয়া হবে না। এতে করে আপনি আপনার মানসিক প্রশান্তির টুকু কখনোই পাবেন না। আপনার কাছে যদি কোন কাজ সঠিক মনে হয় তাহলে লোকের কথা বাদ দিয়ে মন দিয়ে সেই কাজ করার চেষ্টা করুন। আপনাকে দেখতে হবে নিজের কাজটি কতটুকু সঠিক কতটুকু সৎ এবং কতটুকু উপযোগী করে তুলতে পারেন।

৪। নেতিবাচক ভাবনা বাদ দিন

কখনো নিজের ওপর নেতিবাচক ভাবনা তৈরি করবেন না। নিজের উপরে নেতিবাচক ভাবনাগুলো হল।যেমনঃ আমাকে দিয়ে এই কাজ হবে না, আমার দ্বারা কোন কিছু সম্ভব না নিজের ওপর এই ধরনের নেতিবাচক ভাবনা বাদ দিন। আপনার মধ্যে যদি এই ভাবনা গুলো থাকে তাহলে কোন কাজ আত্মবিশ্বাসের সাথে সম্পন্ন করতে পারবেন না। এই ধরনের চিন্তা ভাবনার জন্য সব কাজে আপনাকে পিছু টানতে থাকবে যার কারণে কোনো কাজে সফল হতে পারবেন না। তাই এসব চিন্তা বাদ দিয়ে নিজের সম্পর্কে ভালো চিন্তা করুন আর একটি কথা মনে রাখবেন শুধু নিজের ওপর ভালো চিন্তা নয় অন্যের উপর ভালো চিন্তা করবেন সবসময়।

৫। সবাইকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করবেন না

কখনো সবাইকে নিয়ন্ত্রণ করতে যাবেন না। কারণ আপনি শুধু নিজেকে এবং আপনার মনকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন তার বাইরের কাউকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন না। সে আপনার যত আপন মানুষ হোক না কেন তারপরও তাকে কখনো নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করবেন না যখন তাকে নিয়ন্ত্রণ করতে আপনি ব্যর্থ হবেন তখন আপনার মনে অনেক বড় আঘাত ফেলবে।

৬। নিজের সাথে কথা বলুন

নিজেকে ভালো রাখার উপায় গুলোর মধ্যে নিজের সাথে কথা বলা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আপনি যখন অবসর বসে থাকবেন তখন নিজের সাথে কথা বলুন আপনার কোন কাজ গুলো ভুল হচ্ছে আপনার সিদ্ধান্ত গুলো সঠিক হচ্ছে কিনা এ সম্পর্কে নিজের সাথে আলোচনা করুন এর ফলে আপনার ভুল গুলো খুব সহজেই ধরতে পারবেন এবং আপনার দুর্বল পয়েন্ট গুলো বুঝতে পারবেন। যার ফলে আপনার ভুলগুলো খুব সহজে শুধরে নিতে পারবেন।

৭। কখনো হার মানবেন না

একটি কাজ শুরু করার পরে যদি সেটি আপনি সম্পূর্ণ করতে না পারেন আর ভেবে বসেন আমার দ্বারা এই কাজ হবে না তাহলে আপনি একদম ভুল ভাবছেন। জীবনের যত ব্যর্থ হবেন তত শিক্ষা অর্জন করতে পারবেন এবং সেই শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে খুব সহজেই সফলতা অর্জন করতে পারবেন। জীবনে অনেক ব্যর্থতা আসবে তাই বলে কখনো হার মেনে যাবেন না সেই ব্যর্থতাকে শিক্ষা হিসেবে গ্রহণ করবেন এবং চেষ্টা করে যাবেন তাহলে অবশ্যই সফলতা অর্জন করতে পারবেন।

Follow topics bangla facebook page

Topicsbangla

জানা ও অজানা বিষয় গুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরা আমাদের মূল লক্ষ।আমাদের সাথেই থাকুন আশা করি উপকৃত হবেন।☺☺

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button